চলতি বছর টিনের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

বিশ্ববাজারে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত টিনের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।

বিশ্ববাজারে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত টিনের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে খনি থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকা ও ইন্দোনেশিয়ায় রফতানির কঠোর নিয়ন্ত্রণ দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে টিনের আকরিক সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর, এআই কম্পিউটিং ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে ধাতব পণ্যটির চাহিদা বেড়েছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা আরো জোরালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

ইন্টারন্যাশনাল টিন অ্যাসোসিয়েশনের (আইটিএ) বাজার বিশ্লেষক ফ্রেডি মিচেল জানান, টিনের দাম বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে সরবরাহ সংকট। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে পণ্যটির চাহিদা কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।

গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট) জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে স্থিতিশীল চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের কারণে টিনের দাম ২০২৬ জুড়ে বাড়তে পারে। এ সময় ধাতব পণ্যটির গড় দাম পৌঁছতে পারে টনপ্রতি ৩৫ হাজার ডলারে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসে ছিল টনপ্রতি ৩২ হাজার ডলার।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্রাক্স ইনভেস্টরের রায়ান চার্লস জানান, চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে টিনের আকরিক সরবরাহ কমে গেছে। তবে প্রচলিত ইলেকট্রনিকস খাতে চাহিদা নিম্নমুখী থাকলেও এআই কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর অবকাঠামো ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তৃতির কারণে টিনের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

বিএমআইয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী টিন আকরিকের ঘাটতির কারণে চীনের ইউনান ও জিয়াংসি প্রদেশের প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলোয় কার্যক্ষমতা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পূর্ণ ক্ষমতার অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল।

ফ্রেডি মিচেল জানান, অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়া থেকে টিন রফতানি ছিল সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। যদিও চলতি নভেম্বরে তা আবারো বেড়েছে।

আইটিএর বরাত দিয়ে বিএমআই জানায়, মিয়ানমারের ওয়া রাজ্য থেকে আগামী মাসগুলোয় আবার সরবরাহ শুরু হতে পারে। ম্যান মাও এলাকায় কয়েকটি অপারেটর তিন বছরের খনন লাইসেন্স পেয়েছে বলে খবর রয়েছে।

মিয়ানমার সামরিক সরকার ২০২৩ সালের আগস্টে ওয়া প্রদেশে টিন উত্তোলন স্থগিত করে। এ বছর তা পুনরায় চালুর আলোচনা হলেও তা এখনো অনিশ্চিত।

ক্রাক্স ইনভেস্টর জানায়, মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ইন্দোনেশিয়ার কঠোর রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে টিনের বৈশ্বিক সরবরাহ এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে।

মিচেল বলেন, ‘পুনরায় উত্তোলন শুরুর প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া আফ্রিকান টিন আকরিকের প্রধান রফতানি রুট তানজানিয়ার দার এস সালাম বন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এর প্রভাবও এখনো স্পষ্ট নয়।’

বিএমআই জানিয়েছে, গত কয়েক মাস পুনরায় খনন শুরুর খবর পাওয়া গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৫ সালের মার্চে প্রায় দুই বছর পর খনন পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, যেখানে নতুন লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর আলোচনা স্থগিত হয়।

মিয়ানমার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম টিন উৎপাদনকারী দেশ। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে সাত লাখ টন টিনের মজুদ রয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট সরবরাহের ১৫ শতাংশ। এছাড়া চীন ও ইন্দোনেশিয়ায় পণ্যটির মজুদ রয়েছে যথাক্রমে ৮ লাখ টন ও ৭ লাখ ২০ হাজার টন।

আরও